ধনেশ পাখির খোঁজ আর পাওয়া, না-পাওয়ার হিসেবনিকেশ…

North Bengal এ থাকাকালীন ধনেশ পাখি ফালাকাটাতে দেখেছি কয়েক বার, দেখেছি বান্দাপানি ঘুরতে গিয়েও। কিন্তু বড় যে ধনেশ পাখি, মানে great hornbill, হঠাৎ করেই সেটার দেখা পেলাম কদিন আগে ঝালং এর রাস্তায়, কিন্তু ছবি তোলার আগেই সে ব্যাটা ফুড়ুৎ। সেই দুঃখে খোঁজ করলাম কাছাকাছির মধ্যে কোথায় দেখতে পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। জানা গেলো রংটং বলে একটা জায়গা আছে, শিলিগুড়ি থেকে কাছেই, সেখানে ধনেশ সহ আরো বেশ কিছু ধরনের পাখি দেখতে পাওয়া যায়। সেই রাস্তাতেই আরো এগিয়ে গেলে শিবখোলা, সেখানে একটা মন্দিরও আছে। ওই দিকটায় যাইনি আগে, তাই ওদিকেই যাওয়ার মনস্থির করে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম ফালাকাটা থেকে।

শিলিগুড়ি অবধি highway, সেখান থেকে Hill Cart road ধরে সুকনা পেরিয়ে রংটং station। Rohini route হওয়ার পর থেকে Hill cart road এ গাড়ি চলাচল অনেক কম, জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে ফাঁকা রাস্তা – বেশ উপভোগ্য। দেখতে পেলাম বেশ কয়েকজন cyclist কে। রংটং station এর ঠিক আগে ডানদিকের রাস্তা ধরে এগিয়ে চললাম শিবখোলার দিকে। বেশ কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির পরে চারিদিকে সবুজেরই নানা রকম shade। এই রাস্তায় জায়গায় জায়গায় mark করা আছে bird watching spot বলে। সেরকম কয়েক জায়গায় দাঁড়ালাম, কিন্তু ভাগ্য সুপ্রসন্ন ছিল না বোধহয়। বন্যেরা বনে সুন্দর, আর আমি চাইলেই তারা দেখা দেবে, এরম প্রত্যাশা রাখি না। তাই আশাহত হলেও, মর্মাহত হইনি!! এগিয়ে গেলাম শিবখোলার উদ্দেশ্যে। সেখানে বর্ষার ভরা নদীর প্রাণোচ্ছল জলরাশি দেখে মনটা আবার খুশি খুশি হয়ে গেলো। নদীর bridge পেরিয়েই বেশ খানিকটা জায়গা নিয়ে মন্দির, চারিদিকে গাছপালা। কিছুটা সময় কাটিয়ে পাশের দোকানে মোমো খেয়ে তারপরে ভাবতে বসলাম এবার কি করা যায়।

শিবখোলা নদী
শিবখোলা মন্দির

রংটং এর পর থেকে এই মন্দির অবধি রাস্তা অনেকাংশে সরু, জায়গায় জায়গায় অল্পবিস্তর ভাঙ্গাচোরা, আর শিবখোলা মন্দিরের একটু আগে বেশ কয়েকটা sharp turn আছে, যে turn গুলোতে রাস্তাও বেশ steeply নিচের দিকে নামছে। এই রাস্তা দিয়ে আর ফেরার ইচ্ছা ছিলো না। খোঁজ করে জানলাম এখান থেকে একটা রাস্তা চলে যাচ্ছে মহানদী জায়গাটার দিকে, সেখানে গিয়ে মিশেছে Hill Cart road এ। অগত্যা সেই দিকেই যাওয়া শুরু করলাম। Margaret’s Deck এ খাওয়ার শখ অনেক দিনের, কিন্তু পাশ দিয়ে বহুবার পেরিয়ে গেলেও দাঁড়ানো আর হয়ে ওঠেনি। ধনেশ পাখি দেখার ইচ্ছা যখন পূরণ হলো না, ভাবলাম নাহয় এই ইচ্ছাটাই পূর্ণ হোক।

শিবখোলা মন্দির থেকে মহানদী যাওয়ার এই রাস্তার বেশির ভাগ অংশটাই google map এ নেই, তাই local দের থেকে জেনে এগোতে থাকলাম। রাস্তা বেশ চাপের, অন্তত আমার পক্ষে। সরু, steep আর বেশ কিছু sharp turn আছে। তাই adrenaline rush এর ভরসায় এগোলাম। একটাই বাঁচোয়া, এই রাস্তায় গাড়ির চলাচল খুবই সীমিত, নইলে চাপ হয়ে যেতো। রাস্তায় এক ভদ্রমহিলা দাঁড় করালেন, veternary doctor, পঞ্চায়েতে meeting attend করতে হবে, কিন্তু অনেকক্ষণ গাড়ির অপেক্ষায়। আমাদেরও দিকনির্দেশ দরকার!! অর্থাৎ win-win situation!! তাকে মহানদী পঞ্চায়েতে নামিয়ে আরেকটু এগিয়ে Hill Cart road এ উঠে একটু স্বস্তির নিশ্বাস নিলাম!! এখান থেকে toy train এর track কে পথের সাথী করে, Giddha Pahar View Point পেরিয়ে চললাম Margaret’s Deck এর দিকে।

কার্শিয়াং পৌঁছনোর আগেই কয়েক জায়গায় jam এও আটকালাম। তারপরে কার্শিয়াং শহরের jam কাটিয়ে পৌঁছে গেলাম পরের destination এ!! শখ আর সাধ্য থাকলেও মনে প্রাণে তো ছাপোষা বাঙালি!! চিনি দেওয়া দুধ-চা খেয়ে বড় হয়েছি, এখনও খাচ্ছি!! তাই Margaret’s Deck এর জলের মতো স্বচ্ছ, চিনি ছাড়া, first flush চা খেয়ে শখ মেটে বটে, তবে মন ভরে না!! যাই হোক, সাথে আরো কিছু খেয়ে উদরপূর্তি হলো। এর পরে অবশ্যই ছবিটবিও তুললাম কিছু। তারপরে আবার ভাবতে বসলাম, এবার কোথায়!! ঘড়িতে সময় তখন 1230pm। কার্শিয়াং থেকে ঘুম পৌঁছে, সোজা গেলে দার্জিলিং, কিন্তু গাড়ি নিয়ে গেলে parking নিয়ে সমস্যা। ডানদিকে গেলে লামাহাটা, তাকদা। আর বাঁদিকে গেলে লেপচাজগত, মিরিক। বেশ কিছুক্ষণ লক্ষ্যহীন ভাবনাচিন্তার পরে মিরিক এর দিকেই যাওয়ার ঠিক হলো।

পথে কোথাও ভালো থাকার জায়গা পেলে সেখানেও থেকে যেতে পারি, সেই ভেবে আবার যাওয়া শুরু করলাম। কার্শিয়াং থেকে ঘুম, লেপচাজগত, সীমানা হয়ে মিরিক, প্রায় 60km রাস্তা। কিন্তু এত সুন্দর landscape, যে ক্লান্ত লাগে না। এই হয়তো রাস্তা পাহাড়ের পাকদণ্ডী বেয়ে যাচ্ছে, তার কিছুক্ষণ পরেই pine এর বিশাল লম্বা লম্বা গাছের মধ্যে দিয়ে, আবার একটু পরেই দেখতে পাওয়া যায় বর্ষায় fern এর লম্বা পাতা রাস্তার ধারে ছেয়ে রয়েছে। গাছে হয়ে রয়েছে নানা রঙের অর্কিড। কখনও পাহাড়ের ঢাল বেয়ে বিশাল বিশাল চা বাগান, আবার গোপালধারার মতো জায়গায় টিলার মতো ছোটো ছোটো পাহাড়ে চা বাগান।

এইসব দেখতে দেখতে পৌঁছলাম মিরিক এর কাছাকাছি। মিরিক lake এর একদিকে দোকানপাটের আধিক্য, তাই ইচ্ছা ছিলো উল্টোদিকে কোথাও থাকার। সেই মতো map থেকে খুঁজে, একটা homestay তে phone করে জানা গেলো room আছে, 1500 টাকা। Parking এর জায়গাও আছে। তাই সেখানেই চলে গেলাম। সকাল ছ’টায় বেরিয়ে 200km মত journey করে finally চারটে নাগাদ গাড়িটাকে শান্তি দিলাম!! তবে তখনও বাইরে বেশ আলো, আর নিজেরাও সারাদিন গাড়িতে, তাই আমরা বেরিয়ে পড়লাম নিজেদের হাত পা গুলো একটু সচল করে নিতে। সাথে মিরিক lake এর ধারে বিকেলের snacks টাও হবে!!

রাতের মিরিক

পরের দিন সকাল বেলা আরেকবার মিরিক lake এর এক চক্কর মেরে, সেখানে breakfast করে, তারপরে গাড়ি নিয়ে রওনা হলাম ফেরার পথে। মিরিক থেকে শিলিগুড়ি ফেরার রাস্তাটাও খুবই সুন্দর। অনেক দূর অবধি পাহাড়ের উপর চা বাগান দেখতে দারুণ লাগে। শিলিগুড়ি পৌঁছে Zaika Biriyani তে lunch break, সেখান থেকে বেরিয়ে Tekatali র BMB Sweets এ famous ঝুরি-বুন্দিয়া, তারপরে সোজা Falakata। ফিরতি পথে উপলব্ধি করলাম রাজধনেশ দেখতে না পাওয়াটা আরো কত কিছু পাওয়ার মধ্যে দিয়ে কিভাবে সুন্দর পুষিয়ে গেলো!! ব্যাস আর কি, weekend sorted!!


Comments

8 responses to “ধনেশ পাখির খোঁজ আর পাওয়া, না-পাওয়ার হিসেবনিকেশ…”

  1. Jaydeep Bhattacharya Avatar
    Jaydeep Bhattacharya

    কমেন্ট করার প্রয়োজন বোধ করছি না।

    Like

    1. Pratik Garai Avatar
      Pratik Garai

      এ কেমন বিচার??!!!

      Like

  2. Sanghamitra Ghosal Avatar
    Sanghamitra Ghosal

    Bhalo laglo….erokom likhish aro…easy to understand…

    Like

    1. Pratik Garai Avatar
      Pratik Garai

      বেশ বেশ, তাই হবে, দেখি চেষ্টা করে!!

      Like

  3. Suranya Ghosh Avatar
    Suranya Ghosh

    ভালো ছবি সঙ্গে লেখাও উপভোগ্য।

    Like

    1. Pratik Garai Avatar
      Pratik Garai

      Thank you madam!!

      Like

  4. Moumita Dasgupta Avatar
    Moumita Dasgupta

    Besh bhalo laglo… informative..poribeshona o bhalo..!! Egiye jaao..!!

    Like

    1. Pratik Garai Avatar
      Pratik Garai

      Thank you, thank you!!

      Like

Leave a Reply to Jaydeep Bhattacharya Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *