বছর আটেক আগের কথা, বয়স কম ছিলো, শরীরে মনে জোশ বেশি ছিলো, তাই বউয়ের কথায় বাড় খেয়ে ওর সঙ্গী হয়েছিলাম Goechala trek এর, সিকিমে। NJP থেকে যেদিন গাড়িতে যাচ্ছি trek এর starting point এর দিকে, সেদিন প্রকৃতির করাল গ্রাসে পড়ে Nepal। সেই ভয়াবহ ভূমিকম্প, 2015 সালের। আমরাও ভূমিকম্পের প্রকোপ অনুভব করি রাস্তায় থাকাকালীন।
প্রাকৃতিক বিপত্তির কারণে trek সম্পূর্ণ cancel হতে হতেও শেষ অবধি organizer ঠিক করে দুদিন base location এই থেকে final decision নেবে। দুদিন পরে trek start হয়, তবে Goechala যাওয়ার risk নেওয়া হয়নি, গেছিলাম Dzongri অবধি।
তবে এই গল্প সেই trek এর নয়। তাই ভূমিকার কারণটা আগে বলি। সেই trek এর schedule অনেকটা ছোটো হয়ে যায়, আর সেইজন্য শুরুর আর শেষের extra দিনগুলো আমরা কাটাই base location, Yuksom এ। খুব সুন্দর কেটেছিলো সেই কটা দিন। আর তখন থেকেই মনে একটা সুপ্ত ইচ্ছা রয়ে গেছিলো, কখনও একবার শুধু থাকার জন্য Yuksom আসবো।
Cut to 2024। বছর তিনেক হলো, থাকি ডুয়ার্সের কাছেই। বেশ কিছু জায়গা ঘুরেও নিয়েছি, self drive করে। যে সুপ্ত ইচ্ছা রয়ে গেছিলো মনে, এখন সুযোগ আছে সেটা পূরণ করা, আর সাহসও বেড়েছে। কিন্তু যাওয়া হয়ে আর উঠছিলো না। একটা মূল কারণ দূরত্ব, যেখানে থাকি, সেখান থেকে শিলিগুড়ি প্রায় 2hrs, শিলিগুড়ি থেকে ওদিকটা আরও প্রায় 6-7hrs, lunch break ইত্যাদি প্রভৃতি নিয়ে। তার মানে প্রায় দুটো দিন চলে যাবে শুধু যেতে আসতে। আর এতটা journey করে যখন যাবো, অন্তত একটা গোটা দিন না থেকে ফিরে চলে এলে কিকরে হয়। তার মানে এই trip শুধু weekend এর ছুটিতে হওয়া সম্ভব নয়, অন্তত একটা বা দুটো দিন extra লাগবেই।
Finally যখন আমি আর গৃহমন্ত্রী দুজনেই determined, যে এবারে যেতে হবেই, তখন আবার পরিস্থিতি এদিকে একটু বেগতিক, NH10 এর কারণে। শেষ বর্ষার পরে যখন তখন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ধস নেমে। তবুও জো-হোগা-দেখা-যায়েগা বলে একটা weekend ঠিক করে বেরিয়েই পড়লাম।
অনেকটা পথ, তাই alarm দিয়ে, start করলাম 0430hrs নাগাদ। তাড়াতাড়ি start করার আরেকটা কারণ ছিলো। খবর পাচ্ছিলাম NH10 খোলা থাকলেও ভালোই traffic congestion থাকছে। 7টা নাগাদ Coronation bridge a.k.a. Sevok bridge a.k.a. Bagh pool cross করে এগিয়ে চললাম। সকালের train এ NJP পৌঁছনো লোকজন start করার আগেই পৌঁছে গেছিলাম বলে সেরকম jam পাইনি। মাঝে একজায়গায় থেমে, breakfast করে, তিস্তা bridge পেরিয়ে মেল্লীর কাছে ঢুকে পড়লাম সিকিমে।
Kitam bird sanctuary র কাছে রাস্তা দু’ভাগ হয়, বাম দিকে Jorethang এর রাস্তা ধরলাম, আর রাস্তার অবস্থাও অনেকটা বেগতিক হলো, বেশ বড় বড় গর্ত, বর্ষার জলে ভরা। Jorethang পেরিয়ে, বাঁদিকে Richenpong এর রাস্তা ছেড়ে এগোলাম Geyzing এর দিকে। Legship বলে একটা জায়গা থেকে একটা রাস্তা ডানদিকে চলে যায় Tashiding হয়ে সরাসরি Yuksom এর দিকে, কিন্তু সেই রাস্তায় একটু এগিয়েই বুঝলাম সে রাস্তায় আমাদের ছোট্ট Kwid গাড়ি নিয়ে যাওয়া আমাদের দুজনের কারোরই কম্ম নয়!! অগত্যা ফিরে এসে, Pelling হয়ে যে রাস্তা ঘুরপথে Yuksom নিয়ে যায়, সেই রাস্তাই ধরলাম, এ রাস্তার অবস্থা অনেকটাই ভালো।
এইসব করে আমরা Pelling এর কাছাকাছি পৌঁছে গেলাম 1330 নাগাদ, ক্ষিদে দুজনেরই ভালোই পেয়ে গেছে। খাওয়া হতে হতে ল্যাদও জাঁকিয়ে বসলো!! ঠিক করলাম, Pelling এই থাকা হোক, পরদিন Yuksom গিয়ে ঘুরে আসবো!! Hotel এর খোঁজ শুরু করতেই দেখলাম ভাগ্য সুপ্রসন্ন!! যেখানে খাচ্ছিলাম, কাছেই Sumi Pelling এ ভালো offer পেলাম online এ, সেখানেই থেকে গেলাম।


সারাদিন গাড়ীতে বসে। তাই কিছুক্ষণ rest নিয়ে, ভাবলাম শরীরটাকে সচল করার জন্য একটু হেঁটে আসা দরকার। সেই ভেবে Skywalk এর দিকে হাঁটা লাগালাম। দূরত্ব অনেকটাই। ‘বাপ রে, এতটা হেঁটে ফিরতে হবে’ ভাবতে ভাবতে একটা সময়ে পৌঁছে গেলাম!! মেঘের কারণে চারপাশের view সেরকম না পেলেও, মেঘের সাথে লুকোচুরি খেলতে থাকা বুদ্ধ বাবুকে দেখতে দারুণ লাগলো!! Pelling এর ropeway এখন under construction, এখানে আসা যাওয়ার পথে তারও দুয়েক ঝলক দেখা গেলো। রাস্তার ধারে রঙিন সব ফুল, এসব নিয়ে নেহাৎ মন্দ কাটলো না সময়টা।


পরের দিনটাও শুরু হল মেঘাচ্ছন্ন ভাবেই। বেরিয়ে পড়লাম সেই বহু প্রতীক্ষিত Yuksom এর দিকে। যাওয়ার পথে দেখে নিলাম Rimbi waterfall, Kanchenjunga waterfall। Rimbi Orange Garden, Khecheopalri Lake যাওয়া যেতো, কিন্তু হলো না।
Yuksom এর Kathok lake আরেকবার revisit করার ইচ্ছা ছিলো, কিন্তু সেটাও হয়ে উঠলো না.. 😞। তবে বড় বড় গাছের আশ্রয়ে ঢাকা Coronation throne of Namgyal Dynasty দেখে নিলাম। ঘুরে এলাম Yuksom Helipad থেকে। সেইবারে ছিলাম Hotel Dragon এ, এবারে তার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বহু বছর আগের সেই Has-been-potato, বাঁশের glass এ বুদবুদ কাটা local beer আর masala chai এর স্মৃতিগুলো তরতাজা হয়ে উঠল। আরেকবার বসে কিছু খাওয়ার ইচ্ছা ছিলো, কিন্তু খোঁজ করে জানলাম restaurent বন্ধ। Tourist season নয় এখন, সম্ভবত সেই জন্য।




এইসবের মধ্যেই বৃষ্টিও নেমে গেলো। তাই ফেরার পথ ধরলাম। Pelling পেরিয়ে প্রথমে চলে গেলাম সিকিমের অন্যতম পুরনো Pemayangtse Monastery। Monastery দেখে সেখান থেকে চলে গেলাম Sidkeong Tulku Bird Park। Ticket কেটে ঢোকা মাত্রই এক মহিলার তাণ্ডব নৃত্য দেখে খানিকটা হকচকিয়ে গেছিলাম। ধাতস্থ হয়ে ঘটনা যা বুঝলাম, ওনার পায়ে জোঁক ধরেছিল। যাই হোক। Park টা যথেষ্ট বড়, আর এই চত্বরেই আছে প্রাচীন Rabdentse Ruins। তবে ticket এর টাকা উসুল হলো না!! Maintenance এর কাজ চলছিলো বলে bird park এর মূল tower টাই বন্ধ ছিল। আর দেরী হয়ে গেছিলো বলে ruins ও দেখা হলো না, কারণ সেখানে পৌঁছনোর জন্য বেশ কিছুটা হেঁটে যেতে হবে ভিতরে। রাস্তা করা আছে, তবে সেটা বড় বড় গাছের মধ্যে দিয়ে, তাই অন্ধকারটা একটু তাড়াতাড়ি নামে। একটা restaurant ও আছে এই চত্বরে, main gate এর পাশেই। তবে network একটু খারাপ, তাই UPI option থাকলেও খেতে বসার আগে cash আছে কিনা দেখে নেওয়াই ভালো!!
Pelling পর্ব সেরে পরদিন সকাল সকাল বেরোলাম। তখনও ঠিক করিনি ফালাকাটা ফিরে যাবো, নাকি মাঝে কোথাও stay করবো। আমার ছুটি থাকলেও, বউয়ের office আছে, তাই 1230 র কাছাকাছি এরম কোথাও একটা দাঁড়াতেই হবে, যেখানে ভালো signal আছে।
মেল্লী অবধি তো ভালোই এলাম। কিন্তু bridge এ ওঠার আগেই দেখতে পেলাম উল্টোদিকে NH10 এ বিশাল jam। খেপে খেপে গাড়ি ছাড়ছে, একবার দাঁড় করিয়ে দেওয়া মানে মিনিট 15র ধাক্কা, সময় তখন 11টার কাছাকাছি। একটু প্রমাদ গুনলাম!! ফালাকাটা ফেরার plan drop করে দিয়েছি অনেক আগেই। কিন্তু ওই NH10 এর jam এ ফেঁসে গেলে সাড়ে সর্বনাশ!! না ভালো internet পাওয়া যাবে, আর পেলেও ওই সরু রাস্তায় ইচ্ছামতো দাঁড়িয়ে থাকতে দেবে না।
একবার ভাবলাম bridge পেরিয়ে তিস্তা বাজারের দিকে না গিয়ে উল্টো দিকে রংপোর দিকে যাই। এদিকের jam বেশি দূর থাকবে না, আর চওড়া রাস্তা দেখে দাঁড়ানোও যাবে। কিন্তু Melli থেকে Rongpo অনেকটাই জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে, তাই internet পাওয়ার সম্ভাবনাও ক্ষীণ।
অগত্যা, যা হবে, হবে – এই ভেবে তিস্তা বাজারের দিকেই এগোলাম। ভাগ্যক্রমে ওই খারাপ জায়গায় বেশি দাঁড়াতে হয়নি, তাড়াতাড়িই সেই মোড়টায় পৌঁছে গেলাম, যেখান থেকে বাঁদিকে কালিম্পং, আর সোজা গেলে সেবক bridge।
ঘড়িতে তখন যা সময়, সেই হিসেবে আমাদের options অনেক limited হয়ে এসেছে, তাতে আর কিছু না হোক না হোক, একটা সুবিধা হলো!! Decision নিতে বেশি time লাগলো না!! Nearest বড় locality Kamilpong, সেখানে ভালো internet পাওয়ার সম্ভাবনা। তাই ওইদিকেই যাবো, রাস্তায় suitable hotel পেলে stay করে যাবো, অথবা কোনো cafe পেলে সেখানেই office এর call টা নিয়ে নিতে হবে।
এই পরিস্থিতি, অযাচিত এবং অপ্রত্যাশিত ভাবে, আমাকে একটা অন্য সুযোগ দিয়ে দিলো!! যে বউ আমার driving নিয়ে প্রায়শই অসন্তোষ প্রকাশ করে, সে office এর ঠেকায় পড়ে আমাকে free hand দিয়ে দিলো, আমার মতো করে চালানোর।
নাহ্, rash driving আমি কোনোদিনই করিনা, তবে হ্যাঁ, আগে manual gear এর গাড়ি চালাতাম, আর বয়সও কম ছিলো, তাই একটু জোরে চালাতাম। গত দুবছরে automatic gear এর গাড়ির পাল্লায় পড়ে আর বয়সের ভারে average speed অনেকটাই কমে গেছে। তবুও এই সুযোগ পেয়ে একটু গা হাত পা ঝেড়ে নিলাম!!
তিস্তা বাজার, বা বলা ভালো, চিত্রে থেকে কালিম্পং এর দিকে যাওয়ার রাস্তা বেশ thrilling। যেমন turn, তেমন steep, আর সেইরকম সরু কিছু জায়গায়। আর সময়টাও 12টার কাছাকাছি, তাই গাড়ি চলাচলও আছে ভালোই। তারই মধ্যে এগোতে থাকলাম নতুন পাওয়া উদ্যমে। বেশ খানিকটা যাওয়ার পরে দুজনেই বুঝতে পারলাম যে পছন্দসই hotel পেলেও সেখানে এক রাতের থাকার খরচ নিয়ে দরাদরি করে, check-in process complete করে office এর call নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত সময় নেই। অগত্যা কোনো cafe বা restaurent এর সন্ধান করা শুরু করলাম। খাওয়াও হবে, call ও নেওয়া যাবে। তবে network ভালো হতে হবে। 7th Mile View Point এর কাছে Cafe infinity দেখতে পেয়ে দাঁড়িয়ে গেলাম। Network – check!! প্রথম requirement meet করতেই গাড়ি side করে ঢুকে পড়লাম। সুন্দর গোছানো ছোট্ট cafe। ক্ষিদেও পেয়েছিলো। Chicken sandwich আর Cold coffee চলে এলো order করার কিছুক্ষণের মধ্যেই। খাবারের স্বাদও চমৎকার! এই view point এ এখন আর কেও দাঁড়ায় না, তাই ‘I ❤️ Kalimpong’ signage এর তদারকিও কমে গেছে। তবে জায়গাটা সুন্দর। Office এর কাজ মেটার অপেক্ষা করতে করতে cafe এর পিছনের বারান্দায় কিছুক্ষণ সময় কাটালাম। সকাল থেকে অনেকক্ষণের journey র পরে বেশ ভালো লাগলো এই rest টা।

এইসবের মধ্যে map দেখে ঠিক করে নিয়েছিলাম যে stay টা Pedong এই করবো। ওখানে একটা Zostel ও রয়েছে দেখলাম। পরদিন Lava হয়ে Falakata ফেরা যাবে। সেই মতো এগোতে লাগলাম। আর বিশেষ তাড়া ছিলো না, তাই বাকিটা শান্তির journey।
Online এ দেখে নিয়েছিলাম room available আছে। তাই সোজা পৌঁছে গেলাম। Zostel এর নিজস্ব parking নেই, তবে কাছেই আরেকটা homestay র সাথে arrangement করা আছে। সেই মতো room এ ব্যাগপত্তর রেখে গাড়িও park করে চলে এলাম। Zostel এর সামনে নানা রঙিন ফুলের টব দিয়ে সাজানো চত্বর। সেখানে সোফায়, পোষা বিড়ালটারই দখলদারি!! যদিও আমাদের উপস্থিতিতে সে বিশেষ আপত্তি প্রকাশ করেনি। অল্প জায়গায় কিছু সবজি চাষও হচ্ছে। পাখিদের জন্য ভাত রাখা আছে, সেখানে ছোট্ট পাখিদের বেশ ভিড়। তিনতলার ছাদ, সেখান থেকে দূরে পাহাড়ের সারি দেখতে দেখতে বিকেলটা ভালোই কেটে গেলো। পিছন দিকে বড় বড় গাছ, তারই ডালে লতানো গাছে আবার বড় বড় লাল লাল ফল হয়ে রয়েছে। দেখতে খুব সুন্দর হলেও মনে হলো না সেগুলো খাওয়া হয় বলে। সারা দিনের ক্লান্তি, আর কাছাকাছি বিশেষ দোকানপাটও চোখে পড়েনি। তাই এখানেই রাত্রে খাওয়ার কথা বলে দিয়েছিলাম।


পরদিন আর বেশি দেরি করিনি। কারণ আবার সেই office time এর আগে পৌঁছনোর ব্যাপার ছিল। তাই সকাল সকাল বেরিয়ে, পথে Lava তে ছোট্ট tea break নিয়ে ফেরার পথ ধরলাম, গোরুবাথানের দিকে।

এইভাবেই Pelling – Pedong road trip টা শেষ হলো অনেক বছরের সুপ্ত ইচ্ছাপূরণের ভালোলাগা নিয়ে।

Pelling Pedong Roadtrip Itinerary in 4D/3N
- Day 1
- Reach Pelling from Falakata. Stay @Pelling.
- Day 2
- Sightseeing around Pelling and Yuksom. Stay @Pelling.
- Day 3
- After breakfast drive to Pedong and stay.
- Day 4
- Return journey.





Your opinion matters. Is there anything I missed?