Yeh Jawani Hai Diwani পরবর্তী যুগে Trekking এর একটা জোয়ার এসেছে। এর ভালো দিক যেমন আছে, তেমনি খারাপ দিকও। যাই হোক, সেই নিয়ে boring বিতর্ক করতে আসিনি।
তবে এই trekking এর জোয়ারে গা ভাসিয়ে দেওয়ার একটা সুবর্ণ সুযোগ এখন আমার আপনার মত যেকারোরই নাগালের এবং সাধ্যের মধ্যেই, যেটা এক দশক আগেও হয়তো ছিল না।
খাবার, তাঁবু, oven, sleeping bag সহ কোনো আনুষঙ্গিক নিয়েই এখন আর মাথার চুল ছেঁড়ার দরকার পরে না। নিজেকে আর নিজের ছোট daypack টুকু বইতে পারলেই হবে, বাকি সব ব্যবস্থা হয়ে যাবে টাকা দিলেই।
তো এই জোয়ারে গা ভাসিয়েছিলাম আমিও, প্রথম trek এর জন্য বেছে নিয়েছিলাম Hampta Pass, Manali র কাছে।
পরিকল্পনা মাফিক পৌঁছলাম মানালি, নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে দেখা হলো organizer এর representative এবং বাকি participant দের সাথে, প্রথম দিনে গাড়ীতে পৌঁছতে হবে Jobra, সেখান থেকে কিছু দূরত্ব হেঁটে প্রথম campsite।
অজস্র hairpin bend পেরিয়ে, Kulu valley কে চোখের কোনে হারিয়ে Jobra পৌঁছতে পৌঁছতে বিকেল, সেখান থেকে বিশাল লম্বা লম্বা গাছের সারির মধ্যে দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ দূরে দেখতে পেলাম, জীবনে প্রথমবার, ছোট্ট ছোট্ট কমলা তাঁবু দিয়ে সাজানো, ছবির মত campsite!!



আমার toilet নিয়ে বাতিক আছে, প্রকৃতির মাঝে খোলা আকাশের নিচে প্রাকৃতিক কর্ম করার মধ্যে কোনোরকম রোমান্টিকতা বা রোমাঞ্চ, কোনোটাই আমি কখনো খুঁজে পাইনি। তাই এই নিয়ে একটা আতঙ্ক ছিল, তবে সেই আশঙ্কা দূরীভূত হল campsite এ পৌঁছে। দূরে দেখিয়ে দেওয়া হল toilet tent, এবং বুঝিয়ে দেওয়া তার কিছু basic etiquette.
প্রথম trek, self assesment করার সুযোগ ছিলোনা। তাই bag offload করে দিয়েছিলাম। পরদিন থেকে নিজের একটা ছোট dayback ছাড়া ঝাড়া হাত পা।

সেই মত পরের দিন শুরু হল একটা ছোটো bridge পেরিয়ে, নিচ দিয়ে বয়ে যায় খরস্রোতা পাহাড়ি ঝোরা। এরপরে কিছুটা সমতল, কিছু অংশ boulder – এরকম বিভিন্ন terrain এর উপর দিয়ে এগিয়ে চললাম, বড় গাছের সংখ্যা আস্তে আস্তে কমতে থাকলো। পাশ দিয়ে যাচ্ছিল একটা নদী, স্থানীয় নাম খুব সম্ভবত রানী নদী। খালি পায়ে একটা পাহাড়ী ঝরনা পেরিয়ে পৌঁছতে হবে দ্বিতীয় campsite এ। সেই প্রথম অভিজ্ঞতা ঝরনা পেরোনোর। পাহাড়ের তীব্র গতিতে ছুটে চলা হিমশীতল জল যে ছুরির মত কেটে বসতে পারে পায়ে, সেটা উপলব্ধি করেছিলাম একরাশ রোমাঞ্চ সঙ্গী করে!!
গাছের সারি শেষ হয়েছিলো আগেই, এই দুদিনে শুরু হয়েছে ছোট ছোট ফুলের সমারোহ। হালকা বৃষ্টি হচ্ছিল অহরহ। তাতে চলার অসুবিধা হলেও ফুলের রাশির শোভা যেনো বেড়ে গেছিল বহু গুন!! তাই সেই পাওয়া, না – পাওয়ার অঙ্কে নিজের প্রাপ্তি ছিল বেশিই!! সেই আনন্দেই এগিয়ে চলা।



গত দুদিনে একটা ব্যাপারে বেশ মজা পেয়েছিলাম! বড় শহরে/ airport এ কিছু বিখ্যাত (পড়ুন, বিচ্ছিরি রকম দামী) mineral water পাওয়া যায়, যার গায়ে বেশ বড় বড় করে, গর্বের সাথে লেখা থাকে ‘straight from Himalaya’ etc. etc. এখানে আমাদের বলেই দেওয়া হয়েছিলো, যেকোনো ঝর্নার জল সরাসরি নিশ্চিন্তে খেতে পারি, চিন্তার কোনও কারণ নেই। যদিও অনেকে সেই আশ্বাসে আশ্বস্ত না হয়ে Zeolin etc. মিশিয়ে পাহাড়ের প্রাকৃতিক জলের সেই অপূর্ব স্বাদ নষ্ট করেছিল, তবে আমি সেই রাস্তায় হাঁটিনি। মনের সুখে mineral water খেয়েছিলাম, ‘straight from Himalaya’!! ![]()
![]()

এই দিন বেশ কিছুটা পথ যেতে হবে boulder টপকে, আর বৃষ্টির কারণে সেটা হয়ে পড়েছিল কিছুটা বিপদসঙ্কুল। তাই প্রকৃতির শোভা দেখার সাথে সাথে সতর্কতা অবলম্বন করাটাও ছিল গুরুত্তপূর্ণ। পাশে বয়ে চলা নদীর উপরে বেশ কিছু জায়গায় দেখতে পাচ্ছিলাম বরফের আচ্ছাদন। এই ভাবেই চলতে চলতে পৌঁছে গেলাম একটা বেশ বড় উপত্যকার মধ্যে, এর স্থানীয় নামটি খুব সুন্দর, ‘বালু-কা-ঘেরা’।
এইখান থেকে সামনে দেখা যায় বরফে ঢাকা পথ, সোজা উঠে গেছে Hampta Pass এর দিকে। পরদিন সকালে যাত্রা শুরুর আগেই দেখতে গেলাম রামধনু। আগেও দেখেছি অনেক বার, কিন্তু ওই জায়গায় দাঁড়িয়ে, campsite এর মাথার উপরে দেখতে পাওয়া রামধনুর শোভা অনন্য। এই দিনে আর শুধু জুতোর উপরে ভরসা করে যাওয়া যাবে না। তাই আমাদের দেওয়া হল ‘microspike’ – ধাতব কাঁটা, যা rubber strap এর মাধ্যমে পরিয়ে নিতে হবে জুতোর উপরেই। সেই সব প্রস্তুতি সেরে আবার এগিয়ে চলা। রাস্তা নির্দিষ্ট করে দেবে guide, বরফের উপরে সেই রাস্তায় চিহ্নিত করে দেওয়া খাঁজে প্রতিটা পদক্ষেপ সুনিশ্চিত করে এগোতে হবে। পাশ দিয়ে বয়ে চলা নদীর উপরে বরফের পুরু চাদর। তার মাঝে মাঝে কিছু ফাটল, সেই খানে ঢুকে গেলে কি হবে, সেই চিন্তা মাথায় আনা মানে মনোযোগে গাফিলতির সম্ভাবনা।

কিছুদূর গিয়েই চড়াই আরো বাড়লো, তার সাথে আবহাওয়াও একটু খারাপ হল, মেঘে ঢেকে গেল চারিদিক। তার মধ্যে দিয়েই চলতে চলতে পৌঁছে গেলাম Hampta Pass, উচ্চতা 14065ft। কিছুটা সময় এখানে কাটিয়ে, চার পাশের 360 degree view দেখে অভিভূত হয়ে, এগোতে হবে পরের campsite এর দিকে।
Hampta Pass এর ঠিক আগের কিছুটা রাস্তা যেমন চড়াই, Hampta Pass এর ঠিক পরেই রাস্তা সেরকম সোজা নেমে যায় নিচে। আর এখানেই আরেকটা অসাধারণ অভিজ্ঞতা, প্রথমবার!!! Slide!!!
Guide অভিজ্ঞ চোখে জরিপ করে বুঝলেন বরফের চাদর Slide করার জন্য যথেষ্ট পুরু, মাঝে জেগে ওঠা ছোটো দু’একটা boulder কে পাশে রেখে নির্দিষ্ট করা হল slide এর route, brief করে দেওয়া হল slide এর নিয়মাবলী – কিভাবে গতি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, সেই বৃত্তান্ত। এর কিছু পরে এলো আমার পালা!! ছোটো বেলায় park এর slide গুলোকে slip বলতাম, বড় হয়ে যাওয়ার পরে লোকলজ্জার কথা ভেবে সেগুলোতে আর চাপা হয়না বহু বছর হলো। সেই গ্লানিই যেনো নিমেষে উধাও হয়ে গেলো মন থেকে!!


Hampta Pass খুবই বৈচিত্রপূর্ণ trek route। আর এই trek এর সবথেকে বড় বৈচিত্র্য বোঝা যায় Hampta Pass cross করে। মানালির দিক থেকে Hampta Pass এ পৌঁছেছিলাম বৃষ্টিস্নাত, কুয়াশাচ্ছন্ন সবুজের মধ্যে দিয়ে। আর Hampta Pass পেরিয়ে Lahaul এর দিকে দেখলাম এক ধূসর রুক্ষতা। সেই রুক্ষতার কারণেই কিনা জানি না, boulder এর উপর দিয়ে পরের campsite অবধি journey টা বেশীই লম্বা আর tiring মনে হয়..
পাশ দিয়ে বয়ে চলা ‘চন্দ্র’ নদীও এখানে ধূসর, গতিও যেনো বড় চঞ্চল। তবে সারাদিনের ক্লান্তির পরে, সেই নদীর ধারে campsite এ বসে, অনেক দূরে আর অনেক উঁচুতে, সদ্য পেরিয়ে আসা Hampta Pass দেখতে বেশ লাগে।


পরের দিন শুরু হয় এই নদী পেরিয়ে। এক লম্বা মানবশৃঙ্খল বানিয়ে, খালি পায়ে হিমশীতল জল আর সূচালো ছোট পাথরের ছোবল অগ্রাহ্য করে, নদীর গতির সাথে লড়াই, সে অভিজ্ঞতা কোনোদিন ভুলবোনা। নদী পেরোনোর পরে কিছুক্ষণ সময় দিতে হয় পায়ের পরিচর্যা করতে!! তার পরে আবার এগিয়ে চলা। বহু দূরে দৃশ্যমান একটা bridge এই যাত্রার সমাপ্তি সূচিত করে। এই bridge এর পাশেই শেষ campsite। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে এখান থেকে গাড়ি করে দেখে আসা যায় চন্দ্রতাল।


মানালি ফেরার সময়, পথের বাঁকে দেখতে পেলাম একদল cyclist অভিযাত্রীর। Rohtang Pass cross করার সময় বহু tourist দের সমাগম দেখে উপলব্ধি করলাম এবারের মত trek শেষ, সময় এবার নতুন পরিকল্পনার!!!
এই Hampta Pass যাওয়া July মাসের শেষে। ঠিক পাঁচ বছর পরে আবার একবার গেছিলাম, June মাসের শুরুতে। সত্যি কথা বলতে, একবারের জন্যও মনে হয়নি Repeat Trek করছি!! July এর শেষে যেখানে দেখেছিলাম সবুজের সমাহার, June এর শুরুতে সেখানেই পেয়েছিলাম শ্বেতশুভ্র এক বিশাল ব্যাপ্তি!! এক যাত্রাপথের রূপ যে সময় বিশেষে এতটা পরিবর্তিত হয়ে যায়, চাক্ষুশ করেছিলাম, অবাক হয়েছিলাম, উপভোগ করেছিলাম। সেই অভিজ্ঞতা আবার কখনো……. ![]()
![]()





















< Pratik, an Electrical Engineer by profession, is passionate about electric gadgets and loves to do DIY home automation kind of work himself. An avid traveller, who loves to plan his own trip with family, friends and senior citizens. Originally from the land of Nobel laureate Rabindranath Tagore, Bolpur-Santiniketan. Currently lives in Falakata, North Bengal. >




Your opinion matters. Is there anything I missed?