বনকুলুং এর কথা আগে শুনেছিলাম বটে, তবে কিছুদিন আগে রংটং থেকে মিরিক হয়ে ফেরার পথে রাস্তায় বনকুলুং এর পথনির্দেশ দেখে যাওয়ার ইচ্ছেটা আবার জেগে উঠেছিল। তাই পরের একটা weekend এ সুযোগ পেতেই বেরিয়ে পড়লাম বনকুলুং এর উদ্দেশ্যে। শিলিগুড়ির Zaika Biriyani তে সুস্বাদু বিরিয়ানি খেয়ে যাত্রা শুরু করতেই অবশ্য ছন্দপতন হলো। এক আপদ টোটোওয়ালা টোকা মেরে গাড়ির পেছনের লাইটটা হালকা ফাটিয়ে দিল, ইয়ে জ্বলে গেলো। সেই ভারাক্রান্ত মনে Hillcart Road এ ওঠা মাত্রই আবার ব্যাঘাত। গাড়িতে কেন roof carrier লাগানো আছে, সেই নিয়ে পুলিশের সাথে হালকা বচসা। যাইহোক, সেই সব মিটিয়ে কিছুদূর এগিয়ে মিরিক এর রাস্তা ধরলাম।
বর্ষার সবুজের মধ্যে দিয়ে এগিয়ে যেতে যেতে একটা সময় পৌঁছে গেলাম সেই আগে দেখা পথ নির্দেশের কাছে। মিরিকের রাস্তা ছেড়ে ডান দিকে বনকুলুং। অপ্রত্যাশিতভাবে বনকুলুং এর এই রাস্তা সরু কিন্তু বেশ ভালো। বনকুলুং পৌছালাম আড়াইটা নাগাদ। আগে থেকে কিছু book করে যাইনি। শুরুতেই পেলাম Bunkulung retreat eco hut, বেশ ভালো property, bathtub সহ room, কিন্তু থাকা খাওয়া মিলিয়ে দুজনের জন্য এক রাত্রে চার হাজার টাকা খরচা করতে মন সায় দিল না। রাস্তা ধরে খোঁজ করতে করতে এগোতে থাকলাম, কিন্তু কোনটাই ঠিক মনমতো হচ্ছিল না।

বনকুলুং এর কাছেই আছে Gyaman bridge। বনকুলুং ছোট্ট একটা জায়গা, সেরকম যান চলাচলও নেই, তাও এরকম বিশাল বড় একটা bridge এখানে কেনো তৈরি হয়েছিলো সেটা বেশ ভাবার বিষয়, হয়তো কোনো alternate route এর কথা ভেবে। যাই হোক, থাকার খোঁজ করতে করতে সেই bridge এর দিকেই এগোচ্ছিলাম। রাস্তায় চোখে পড়লো Dolma Farm Stay এর advertisement, phone করা হলো। পাহাড়ি নদীর ধারে swimming pool সহ থাকার ব্যবস্থা, খরচও বেশি নয়, 1500 জনপ্রতি থাকা-খাওয়া নিয়ে। এমনকি, সেদিন lunch করবো না বলে পরের দিন lunch করে বেরোনোর প্রস্তাবও মেনে নিয়েছেন!! সেই শুনে মন তখন ভীষণ পুলকিত।




কিন্তু Gyaman bridge এর একটু আগে main রাস্তা ছেড়ে বাঁদিকে Firm Stay এর রাস্তা ধরার কিছুক্ষণের মধ্যেই চোখে সরষে ফুল দেখা শুরু করলাম। রাস্তার অবস্থা বেশ খারাপ। নাচতে নাচতে পৌঁছলাম ব্রীজের ঠিক তলায়। ততক্ষণে ভীষণ সন্ধিহান যে আগে যাব নাকি ফিরে যাব। এক জায়গায় রাস্তা দুভাগ হচ্ছে, doubt হচ্ছিলো, গাড়ি থেকে নেমে একটা রাস্তা ধরে পায়ে হেঁটে একটু এগিয়ে যেতেই নদীতে পৌঁছে গেলাম!! ফিরে এসে আবার phone করলাম, তারপর কথা মত অন্য রাস্তাটা ধরে আরো কিছুটা গিয়ে শেষমেশ পৌঁছলাম।


অনেকটা জায়গা জুড়ে property, মোটামুটি গোছানো, ছিমছাম। তিনদিকে পাহাড় দিয়ে ঘেরা জায়গা, আরেক দিকে বিশাল Gyaman bridge। মাঝখান দিয়ে বয়ে চলেছে নদী, তবে বর্ষায় বেশ খরস্রোতা। Property র ঠিক মাঝখানে বড় pool, তবে maintenance এর একটু অভাব আছে। তারই একপাশে দুতলা বাড়ি, উপরে থাকার চারটে room, নিচে খাওয়ার ব্যাবস্থা। এছাড়াও বেশ কয়েকটা 3-person tent আছে, pool এর চার পাশে। নদীর ধারে চালা করা বসার ব্যবস্থা, বেশ ভালোই time কাটে সেখানে বসে। তারই পাশ দিয়ে নেমে গেলেই নদী, পা ডুবিয়ে বসে থাকার ব্যাপারটা কিন্তু আলাদাই!! ও হ্যাঁ, দুটো পোষা কুকুর আছে, একজনের বেশ বড়সড় চেহারা!! সে আবার কেউ pool এ নামলেই pool এর চারপাশে চক্কর দিতে দিতে তাকে পাহারা দেয়!! আর আছে একটা পোষা সাদা ঘোড়া! এই সব নিয়ে সময় কেটেছে ভালোই!!


পরদিন সকাল থেকে একটু এদিক ওদিক পায়ে হেঁটে ঘুরে 12টা নাগাদ lunch করতে বসেছি, ইতিমধ্যে দেখলাম আরো দুটো group এসে পৌঁছল। Homestay র সাথে কথা বলে বুঝলাম রাস্তা দুর্গম হলেও tourist দের আসা যাওয়া লেগেই থাকে, অন্য season এ ভিড়ও বাড়ে।
বেড়াতে গিয়ে যদি কখনও সুযোগ পাই, চেষ্টা করি যে রাস্তা দিয়ে গেছি, ফিরতি পথে অন্য রাস্তা দিয়ে ফেরার। Map দেখে বুঝেছিলাম, আমরা যে রাস্তা দিয়ে গেছিলাম, সেই রাস্তাই Gyaman bridge cross করে চলে যাচ্ছে Kurseong এর দিকে। খোঁজ করে জানলাম, সে রাস্তা আছে ঠিকই, তবে রাস্তার অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। তবুও সেই দিকেই এগিয়ে, পৌঁছলাম Gyaman bridge এর উপর। এক প্রস্থ ছবিটবি তুললাম। একটা bikers group এসেছে Sunday ride এ, Kurseong এর দিক থেকে। তাদের cross করে পেরোতে যাবো, একজন বেশ অবাক হয়ে তাকিয়ে ভ্রু তুলে জিজ্ঞাসা করলো, এদিক দিয়ে যাবে?? মনে already একটা চাপা tension ছিলোই, সেটাই এবারে একটু ভয়ে পরিণত হলো!! একটু এগোতেই বুঝলাম এদিকের রাস্তার অবস্থা সত্যিই বেশ খারাপ। কোনরকমে গাড়ির তলায় ঠোকা লাগা বাঁচাতে বাঁচাতে এগিয়ে চললাম।

কিছুদূর গিয়ে একটা শিব মন্দির, পুরনো আর বেশ বড়, পূজোর তিথিতে ভালোই ভিড় হয়, বোঝা যায়। সব কিছু ভালোর মধ্যে একটা জিনিসই একটু চোখে লাগে, মন্দিরের মূল ফটকে হিন্দিতে লেখা অম্বতীয়া শিব ধাম। পশ্চিমবঙ্গে এখন বাংলার বড়ই দুর্দিন.. এই মন্দির থেকে একটু এগোলে, আছে অম্বতীয়া দেবী ধাম। পাহাড়ি ছোট্ট নদীর ধারে ছোট্ট মন্দির, খুব সুন্দর। মোটামুটি এইখান থেকে রাস্তা আগের থেকে ভালো। লোকজনকে জিজ্ঞাসা করে জানলাম Kurseong না গিয়েও Fatak বলে একটা জায়গায় Pankhabari road এ ওঠার একটা রাস্তা আছে, সেটাই ধরলাম, যেহেতু আমরা ফিরবো Falakata।


এতক্ষণ ধরে ভাঙ্গা রাস্তা, সরু রাস্তা ছিলো, তবে গাড়ির ভিড় ছিলো না। Pankhabari road এ ওঠার পর রাস্তা মাখন, কিন্তু গাড়িও বাড়লো ভালোই, আর তার সাথে অগুনতি turn। গত তিন বছরে North Bengal এ বেশ কিছু জায়গায় গাড়ি নিয়ে ঘুরেছি। গাড়ির ভিড় না থাকলে turning বা steep চড়াই এ এখন আর খুব অসুবিধা হয় না। আর এই অসুবিধাটা হয় বলেই, Ghoom অবধি গেলেও, Darjeeling মুখো হইনি গাড়ি নিয়ে। এই Pankhabari road এও একটা turning এ এক local driver একটু lecture দিয়ে গেলো।
বাকি পথ ঘটনাবিহীন। ঘুরপথ হলেও Sevok bridge হয়ে Chalsa র রাস্তা ধরলাম। পথে Malbazar busstand এর কাছে juice এর দোকানে একটা stop, আর তারপরে Nagrakata toll plaza র ঠিক আগে আমাদের খুব প্রিয় চা দোকানে একটা stop। এই চা দোকানটার কথা আলাদা করে বলবো। দুধ চিনি দেওয়া চা যারা খান, তারা অবশ্যই দাঁড়াবেন। সকালে লুচি তরকারি আর বিকেলের সিঙ্গারাটাও দারুণ। এই route এ আমাদের mandatory stop, in fact বেশির ভাগ সময় এই চা দোকান হয়ে যাওয়ার জন্য আমরা এই route টা ধরি!! ব্যাস আর কি, চা তেষ্টা মিটিয়ে চললাম Falakata র উদ্দেশ্যে!!

Bunkulung travel itinerary
- Day 1: NJP to Bunkulung via Mirik road, explore & stay at Firmstay
- Day 2: After lunch return from Bunkulung to NJP
Best time to Visit:
Round the year.





Your opinion matters. Is there anything I missed?