ত্রিপুরায় (Tripura) স্মৃতিমন্থন।

অনেক ছোটবেলায় ত্রিপুরা ঘুরতে গেছিলাম। সেই বারের প্রধান আকর্ষণ ছিল প্রথম plane এ চাপা। ‘Flight এ চাপা’ বলার চল তখন বোধ হয় শুরুই হয়নি, সবাই plane এই চাপতো!! দাদু – দিদা, ঠাকুরদা – ঠাকুমা সবাইকে প্রথম plane এ চাপানোর ইচ্ছাপূরণ করেছিল বাবা। এর বাইরে সেই trip এর ভাসা ভাসা টুকরো টুকরো স্মৃতিই শুধু মনে ছিলো। যেমন, তখন plane এর পিসি এক tray লজেন্স নিয়ে সবার কাছে গিয়ে বলতো, যতগুলো ইচ্ছা তুলে নিতে!! সে এক আলাদাই সময় ছিল!! এছাড়া মনে আছে জলের মাঝে একটা মস্ত মহল। আর, একটা পুকুরে অনেকগুলো বিশাল বড় বড় মাছ, কচ্ছপ। সে কচ্ছপগুলো ছিল এমনই প্রকাণ্ড, যে তখনকার আমার size এর বাচ্চাকে তার উপরে আরামসেই বসানো যেতো!! আর সেভাবে কিছু মনে ছিলো না।

এইবারে দীপাবলির ছুটিতে কোনো ঘোরাঘুরির plan করা হয়নি আগে থেকে। শেষ বেলায় যেদিকেই যাওয়ার কথা ভেবে ticket খুঁজতে যাই, হয় ticket নেই, অথবা থাকলে তার খরচ সাধ্যের বাইরে!! খোঁজাখুঁজি চালিয়ে গেলাম। শেষমেশ দেখা গেলো ত্রিপুরা যাওয়ার একটা special train এ ticket available, আবার ত্রিপুরা থেকে কলকাতা যাওয়ার flight এর (এখন আর বিশেষ কেও plane বলে না!!) খরচ সেই দুর্মূল্যের বাজারেও বেশ কমই।

তড়িঘড়ি book করে ফেললাম। বিভিন্ন কারণে প্রথমে solo trip এরই plan ছিলো, পরে বৌ যুক্ত হলো, শেষ বেলায় আরো দু’জন। এতে করে solo trip এ public transport খোঁজাখুঁজি করে ঘোরার adventure টা মাঠে মারা গেলো ঠিকই, তবে অল্প সময়ে, অল্প ঝামেলায় একটু বেশি ঘোরার সুযোগ হয়ে গেলো।

Trip এর শুরুটাই হলো বেশ আকর্ষণীয় ভাবে। Special train, যেটায় ticket কেটেছিলাম, সেটা আসবে ভোপাল এর কাছে Rani Kamlapati Railway Station থেকে। Train এর দ্বিতীয় দিনের যাত্রাপথে আমরা উঠবো কোচবিহার স্টেশন থেকে, রাত্রি 2125hrs এ। Special train যথারীতি শুরু থেকেই late করা শুরু করে কোচবিহার পৌঁছলো 12ঘণ্টা late এ, পরদিন সকাল 0930hrs নাগাদ। তবে এই ঘটনায় আমরা যারপরনাই খুশি হলাম, in fact, চাইছিলাম বাকি পথ যেতে যেনো আরো অন্তত চার পাঁচ ঘণ্টা late করে!! কেনো, বলি!!

প্রথমত কোচবিহার স্টেশনে আমরা মাঝরাতের পরিবর্তে সকাল বেলায় fresh হয়ে সুন্দর ভাবে উঠতে পারলাম। দ্বিতীয়ত, train যদি ওই 12ঘণ্টার দেরীই বজায় রেখে চলতো, তাহলে আমরা আমাদের গন্তব্য, ত্রিপুরার কুমারঘাট স্টেশনে পৌঁছতাম রাত্রি তিনটে নাগাদ!! কিন্তু কোচবিহারের পর বাকি যাত্রাপথে আরো অতিরিক্ত ঘণ্টা তিনেক late করায় আমরা পৌঁছলাম ভোরবেলা 0530hrs এ, perfect timing!!

Kumarghat station এ নেমে কাছেই একটা হোটেলে 11টা অবধি একটা room নিয়ে তাড়াতাড়ি fresh হয়ে নিলাম। ব্যাগপত্র রেখে breakfast সেরে আমাদের গন্তব্য ঊনকোটি। এখানেও কাহানি মে একটা twist হয়ে গেলো!!

ঊনকোটির পাহাড়ে খোদিত যে ছবিগুলো দেখতে আসা, Google map অনুযায়ী সেই জায়গার দুরত্ব দেখেছিলাম Kumarghat station থেকে 8km মতো। সেই মতো আমরা toto চেপে যাওয়া শুরু করার কিছুক্ষণ পরে দেখি map এ দেখানো ‘Unakoti Rock Carvings’ এর location অন্যদিকে রেখে আমরা যাচ্ছি আরেক দিকে!! Toto র ভাইটির সাথে কথা বলে মাথায় হাত!! যেখানে যেতে হবে, সেই জায়গা map এ mark করা আছে ‘Unakoti Eco Park’ নামে, আর তার দুরত্ব প্রায় 25km!! 😢😢। আর কি করা, Toto তে এক ঘণ্টার journey করে পৌঁছলাম। তবে যাওয়ার পরে এ কষ্ট আর মনে রইলো না। পাহাড়ের গায়ে খোদাই করা প্রকাণ্ড সব মূর্তি, খুব সুন্দর। অবশ্য একটা সতর্কবার্তা, বয়স্ক বা চলাচলে অসুবিধা যাদের আছে, তাদের পক্ষে শুরুর দিকের কয়েকটা মূর্তিই দেখা সম্ভব, এবং তার জন্যও, অল্প হলেও, কিছু সিঁড়ি ভাঙতে হবে। তারপরে প্রচুর সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করলে উপরে একটা ছোট ঘরে সংরক্ষণ করা কিছু মূর্তি, নিচে পাহাড়ের গায়ে খোদাই করা গণেশের মূর্তি আর তারই পাশে পাথরে খোদাই করা চতুর্মুখী মূর্তি দেখে আসা যায়। কোনো entry fee নেই। গাছগাছালিতে ভরা পরিবেশে এই প্রাচীন শিল্প দেখতে পাওয়া এক অনন্য অভিজ্ঞতা।

এখান থেকে আবার এক ঘণ্টার toto journey করে ফিরলাম কুমারঘাট। আমাদের অভিজ্ঞতার পরিপ্রেক্ষিতে বলে রাখি, ঊনকোটির এই জায়গাটা কুমারঘাট আর ধর্মনগর – এই দুই station এর প্রায় মাঝামাঝিই বলা চলে, তাই দুটো station থেকেই আসা যেতে পারে।

কুমারঘাটে পৌঁছে খাওয়াদাওয়া সেরে একটা গাড়ি ঠিক করা হলো আগরতলা যাওয়ার জন্য, খরচ 3900 টাকা। কিন্তু সেই পাকা driver তেল বাঁচানোর ধান্দায় এমন এক short cut রাস্তা ধরে নিয়ে গেলো, তার অবস্থা কহতব্য নয়, ওই রাস্তায় এসে আদৌ তার তেল বাঁচলো কিনা, সেটাও একটা প্রশ্ন।

আগরতলার একটা প্রধান আকর্ষণ উজ্জয়ন্ত প্যালেস। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিবিড় যোগাযোগ ছিল ত্রিপুরার সাথে। ওনার প্রতি শ্রদ্ধা, ভালবাসা উপলব্ধি করা যায় বিভিন্ন জায়গায় ওনার স্থাপিত মূর্তি দেখে। এই palace এর নামকরণও তাঁরই। Palace এর কাছেই আগে থেকে book করে রাখা hotel এ যখন পৌঁছলাম, ঘড়িতে তখন সময় ওই চারটে মতন। তাড়াতাড়ি করে বেরিয়ে palace এ পৌঁছলাম 1645hrs নাগাদ। Palace এর ভিতরে museum, সন্ধ্যেয় light & sound show, এর সাথে উপরি পাওনা হিসেবে সুযোগ পেলাম Laser show দেখার, যেটা শুধুমাত্র weekend এই হয়। এই সব মিলিয়ে Gold package এর খরচ জনপ্রতি 200 টাকা। Museum দেখে, তারপরে light & sound show র মাধ্যমে ত্রিপুরার ইতিহাস সম্পর্কে একটা সম্যক ধারণা পাওয়া গেলো। এরপর laser show টাও বেশ চমকপ্রদ। সব কিছুর শেষে palace এর বাইরে কিছু street food খেয়ে trip এর প্রথম দিনের সমাপ্তি।

এরই মধ্যে পরের দু’দিনের জন্য গাড়ি ঠিক করে নিয়েছিলাম। সেই মতো, পরদিন সকাল 9টা নাগাদ বেরিয়ে পড়লাম উদয়পুরের উদ্দেশ্যে। পথে বেশ কিছু sightseeing এর ব্যাপার আছে। প্রথমে পৌঁছে গেলাম কসবা কালী মন্দির। ভারত – বাংলাদেশের একদম border এ এই মন্দির। আগে দুই দেশের একটা সম্মিলিত হাটও হতো, কিন্তু বছর তিনেক হলো সবই বন্ধ হয়ে গেছে, এখন সেই সব হাটের চালা ঢেকে রয়েছে জংলী লতাপাতায়। পাশেই বন্দুকধারী নিরাপত্তা রক্ষীর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি মনে করিয়ে দেয় অনেক কিছুই আর আগের মতো নেই। মন্দিরের পাশেই বড় দিঘি, নাম তার কমলা সাগর, যার তিন ধারেই বাংলাদেশের সাথে সীমারেখা টানা আছে উঁচু তারজালির। মায়ের মুখে শুনেছি, সেই বারে এইখানে এসে হঠাৎ আমার ঠাকুরদা কে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিলো না। কিছুক্ষণ খোঁজাখুঁজির পরে পাওয়া গেলে জানা যায় ঠাকুরদা একটু বাংলাদেশের মাটিতে পা দিতে চলে গেছিলেন!! 😅। যাই হোক, এখন আর সেইসব সুযোগ নেই!!

এরপরে আমরা চলে গেলাম ত্রিপুরাসুন্দরী মন্দির। এই মন্দির একটি শক্তিপীঠ। মায়ের সুদূরপ্রসারী জনপ্রিয়তার কারণে এই মন্দির এবং সংলগ্ন জায়গার প্রচলিত নাম মাতাবাড়ি। ঘটনাচক্রে এই সময়েই মন্দির চত্বরে তিনদিন ব্যাপী বড় মেলা হয়, সেটা যদিও আসার planning করার সময় আমার জানা ছিলোনা। এবং এই মেলা চলাকালীন প্রচুর ছাগল এবং কিছু মোষ বলিও হয়। বলি চলছিল বলে প্রচুর ভিড়, তাই দুপুরের রৌদ্রে প্রায় ঘণ্টা খানেক এদিক ওদিক ঘুরেও সেভাবে মায়ের দর্শন না পেয়ে যখন গাড়ির কাছে পৌঁছলাম, গাড়ির দাদা জিজ্ঞাসা করলেন দীঘির কাছে গেছিলেন??! আমাদের গ্লানি আরেক দফা বাড়লো!! এটাই সেই দিঘি, যেখানে ছোটবেলায় আমি প্রকাণ্ড মাছ আর কচ্ছপ দেখে বিস্মিত হয়েছিলাম!! যাই হোক, মায়ের যা ইচ্ছা, হয়তো পরে আবার সুযোগ হবে, ভেবে চলে গেলাম।

এরপরে মহাদেব বাড়ি মন্দির দেখে আমরা গেলাম ভুবনেশ্বরী মন্দির এবং সেই একই জায়গায় অবস্থিত রাজবাড়ীর উদ্দেশ্যে। এখানে জনপ্রতি 10টাকা entry fee লাগে। গাছের ছায়ায় রবীন্দ্রনাথের মূর্তি দেখে বেশ একটা ভালোলাগার অনুভূতি হয়। তবে রাজবাড়ী চত্বরে রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, দেয়ালে দেয়ালে কিছু মানুষের নিজেদের ভালবাসার প্রমাণ রেখে যাওয়ার অদমনীয় তাগিদ, সব মিলিয়ে একটু যেন বিষাদও ছুঁয়ে যায়। এখানেই কাছে আরেকটা ছোটো মন্দির চত্বরে প্রাচীন কালে নরবলি হতো বলে শোনা যায়। কিন্তু স্থানীয় জনশ্রুতি এবং বিশ্বাসের কারণে আমাদের ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও গাড়ির দাদা আমাদের সেখানে নামার বা যাওয়ার অনুমতি দিলেন না। তাই দুর থেকে দেখেই চলে গেলাম। ঘড়িতে তখন দুটো।

সেদিনের শেষ গন্তব্য নীরমহল, এটাই ছোটবেলার সেই জলের মাঝে মস্ত মহল!! কাছেই resort এ করা ছিলো সেদিনের booking। দুপুরের খাওয়াও হয়নি, এদিকে দেরি করলে আর যাওয়াই যাবে না নীরমহল, কারণ boat এ করে যেতে হয়। Boat এ ওঠার জায়গা resort এর কাছেই, তাই পরদিন 9টা নাগাদ তৈরি থাকার কথা বলে গাড়ির দাদা চলে গেলেন। আমি আবার একটু তাড়া দেওয়া শুরু করলাম!! খাওয়াদাওয়া সেরে ঘাটের কাছে পৌঁছলাম বিকেল 4টে নাগাদ। এখানে এক প্রস্থ নাটক বাকি ছিলো!

তা হয়েছে কি, boat এ করে নিয়ে যাওয়ার সরকারি rate 50টাকা জনপ্রতি, সেই boat ছাড়ে মোটামুটি 40জন হলে। এদিকে counter এর লোকজন ছোটো ছোটো group কে 2500 টাকায় private reserve boat এ পাঠাতেই বেশি উদ্যোগী, সম্ভবত বেশি কমিশনের লোভে!! এতে করে সরকারি boat ভর্তি হওয়ার পরিস্থিতিই তৈরি হয়না!! এই ধরনের পরিস্থিতিতে আমি সাধারণত মাঠ ছেড়ে sideline এর বাইরে চলে গিয়ে দর্শকের ভূমিকা নেওয়াই পছন্দ করি, কারণ জানি এইবার খেলা হবে। জীবনের কিছুটা সময় একজনের মারকুটে ভূমিকা দেখে অভ্যস্ত আমি, এমতাবস্থায় আমি তারই মুখ চেয়ে নিশ্চিত এবং নিশ্চিন্ত ছিলাম যে কিছু একটা এসপার ওসপার করেই ছাড়বে!! হয় boat syndicate এর লোকজন আমাদের ভাগিয়ে দেবে, যাওয়াই হবে না, নইলে আমরা র‍্যালা নিয়ে ওই সরকারি rate এই যাবো!! এক্ষেত্রে দ্বিতীয়টিই হলো!! 😇

নীরমহল থেকে সূর্যাস্ত খুব সুন্দর, এ কথা পড়ে এসেছিলাম, দেখলাম সেটা অত্যুক্তি একদমই নয়। আর আমাদের কপালগুণে আকাশও ছিলো সূর্যাস্ত দেখার জন্য perfect। এখানে entry fee আছে, আর সাথে camera থাকলে তার charge 50টাকা। সূর্যাস্তের পর যখন ফিরছি resort এর দিকে, ততক্ষণে শরীর জানান দিতে শুরু করেছে সারাদিনের ঘোরাঘুরির ক্লান্তি!!

গাড়ির দাদার কথা মতো পরদিন আমরা মোটামুটি 0915hrs নাগাদ breakfast সেরে, check out করে ready, কিন্তু উনি আর আসেনই না। এদিন আমাদের একটু ভজকট plan, ছবিমুড়া বলে একটা জায়গায় যাবো, সেখান থেকে আমি, আমার বউকে উদয়পুরে একটা hotel এ drop করে গাড়ি বাকি দু’জনকে নিয়ে চলে যাবে airport, তাদের সেদিনই flight, আমাদের পরের দিন। তাই একটু উদ্বিগ্ন হচ্ছিলাম অপেক্ষা করতে করতে। শেষে উনি এলেন 1030নাগাদ। আমরা চললাম ছবিমুড়ার দিকে। এখানেও boat এ করে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপার।

ছবিমুড়া পৌঁছলাম 1130hrs নাগাদ, বিশেষ দেরী হয়নি। এখানেও আবার সেই একই বৃত্তান্ত। সরকারি rate এ জনপ্রতি 150টাকা দিয়ে boat এ যাওয়ার জন্য মোটামুটি 20জন মতো হতে হবে। তবে আজ বীরাঙ্গনার তেজ একটু স্তিমিত ছিলো, সম্ভবত এই কদিনের journey র ধকল এবং আনুষঙ্গিক কারণে। উত্তরপাড়ার দিক থেকে আসা আরো চার জনের একটি group কেও পাওয়া গেলো। আবার এদিন আমাদের হাতে সময়ও একটু কম। সবদিক বিবেচনা করে আমরা আট জন 2800টাকা দিয়ে একটা private boat এই যাওয়ার মনস্থির করলাম। আমরা পশ্চিমবঙ্গের মানুষ, অন্যায়ের সাথে আপোস করেই তো অভ্যস্ত!!

দু’পাশে জঙ্গল ঢাকা পাহাড়ের মধ্যে দিয়ে নদী বয়ে চলেছে, সেই নদীতেই boat এ ভেসে চলেছি আমরা। শুরুর মুখেই পাহাড়ের গায়ে খোদাই করা মূর্তি দেখতে পাওয়া গেলো। বেশ কিছুটা গিয়ে পাহাড়ের গায়ে দেখতে পাওয়া যায় সেই খোদাই করা দেবী মূর্তি, যার সাথে ছবিমুড়ার সুখ্যাতি ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। এইখানে নেমে ছবি তোলার সুযোগ রয়েছে। Boat যাত্রার এটাই শেষ point। ফেরার পথে আরও এক জায়গায় boat দাঁড়ায়, সেখানে নেমে railing দেওয়া পথে হেঁটে যাওয়া যায় দু’ পাশে উঁচু পাহাড়ের দেওয়ালের মধ্যে দিয়ে, খানিকটা যেনো গিরিখাতের মতোও বলা চলে। ভিতরে আছে পাহাড়ের গায়ে খোদাই করা শিবলিঙ্গ, ছোটো গুহা। পাশ দিয়ে বয়ে চলে ঝোরা। সব মিলিয়ে বেশ রোমাঞ্চকর পরিবেশ। North bengal এ সিকিয়াঝোরা আর ইয়েলবং বলে দুটো জায়গা আছে, এই ছবিমুড়ার পরিবেশ যেনো ওই দুটো জায়গার বৈচিত্র্য, সৌন্দর্য্য মিলিয়ে মিশিয়ে সৃষ্টি হয়েছে।

এবারের ত্রিপুরা trip এর এটাই ছিলো শেষ দ্রষ্টব্য। ফিরতি পথে আমাদের উদয়পুরের হোটেলে নামিয়ে দিয়ে গাড়ি চলে গেলো আগরতলায় airport এর দিকে। তবে বিধাতা আমাদের প্রাপ্তিযোগের আরেকটু বাকি রেখেছিলেন। উদয়পুরের হোটেলে fresh হয়ে যাওয়ার পরে মনে পড়লো ড্রাইভার দাদার কথা। বলেছিলেন সন্ধ্যার পরে ত্রিপুরাসুন্দরী মন্দির চত্বরে দীপাবলি উপলক্ষ্যে চারিদিকে আলোর রোশনাই, মেলার দোকান, মানুষজনের উৎসাহ, সব কিছু মিলিয়ে ভালোই লাগবে। আর আমাদের তো মায়ের দর্শন আর দীঘির পাড়ে ঘুরে আসা বাকিই ছিলো। তাই এই সুযোগকে মায়ের ইচ্ছা মনে করে আমাদের তরফেও চেষ্টার ত্রুটি না রেখে, বেরিয়ে পড়লাম।

অনেকটা আগে থেকেই রাস্তায় No entry। Auto, e-rickshaw ইত্যাদি করে বেশ কিছুটা রাস্তা এগিয়ে শেষের মোটামুটি 1km রাস্তা হেঁটেই যেতে হলো। No entry র পর থেকেই পুরো রাস্তা জুড়ে আলোর রোশনাই। তারই নিচে বিভিন্ন জিনিসের সমাহার নিয়ে মেলা। উল্লেখযোগ্য হলো একটা sidelane জুড়ে শুধুই কাঠের furniture বিক্রি হচ্ছে। ত্রিপুরা তে বেতের জিনিস, বাঁশের মধ্যে খোদাই করা ভাস্কর্যের সুনাম আছে, সেইসব জিনিসও পাওয়া যাচ্ছে।

এইসব দেখতে দেখতে একটা সময় পৌঁছে গেলাম মন্দির সংলগ্ন বড় দীঘি কল্যাণ সাগরের পাড়ে। চারিদিকে মানুষজনের ভিড়, তাদের কলতান, আলোর ছয়লাপ, মাইকের গর্জন। হয়তো তাদের পরিবেশে এই অনাকাঙ্খিত অনুপ্রবেশের কারণেই পুকুরে অগুনতি বিস্কুট পড়ে থাকা সত্ত্বেও ছোটবেলাকার স্মৃতিতে গেঁথে থাকা সেই বিশাল মাছ আর কচ্ছপের দেখা আর পেলাম না। পাড় থেকে বেশ কিছুটা দূরে তাদের ভেসে থাকা মুখ অবশ্য এইটুকু জানান দিলো যে তারা ছিলো, তারা আজও আছে। শুধু আজ দেখা হবে না।

তবে দেখা পেলাম, ত্রিপুরাসুন্দরী মায়ের। দীঘি থেকে কিছুটা ভগ্ন হৃদয় নিয়ে মায়ের মন্দিরের দিকে গেলাম। তখন সন্ধেবেলা নিয়মের বেড়াজাল শিথিল। আগের দিনের local খবরের কাগজ পড়ে জেনেছি, এই কদিন নূতন বেনারসি শাড়ি আর বিবিধ অলংকার, মণিমানিক্যে সজ্জিত হয়ে মা দেখা দেন। সেই রূপ দেখলাম মন ভরে, সামনে থেকেই। তারপর একরাশ পরিতৃপ্তি নিয়ে হোটেলে ফেরার পথ ধরলাম।

পরদিন, শেষ দিন, সে অর্থে ঘটনাবিহীন। উদয়পুর থেকে বাস ধরলাম আগরতলার উদ্দেশ্যে, 50 টাকা ভাড়া জনপ্রতি। মোটামুটি ঘণ্টা দুয়েক পরে আগরতলার Nagerjala bus stand এ নামালো। এখান থেকে 100টাকা দিয়ে auto reserve করে চলে গেলাম Polo Central mall, কারণ flight সেই রাত 1900hrs এ, তার আগের বাকি সময়টা কাটাতে হবে তো!! ওখানেই food court এ lunch সেরে নিলাম। KFC, Dominos, Subway সবই আছে। বিকেল হলে আবার auto reserve করলাম 150টাকা দিয়ে, বললো airport এর ভিতরে ছেড়ে দেবে। ভাবলাম বাইরে থেকে ভিতরে বোধ হয় অনেকখানি রাস্তা। ও মা, পৌঁছে দেখি, একটু খানি। তাই বড় ব্যাগ না থাকলে reserve করার পরিবর্তে 30 – 50টাকা জনপ্রতি দিয়ে বাইরেও নেমে যাওয়া যায়।

যাই হোক, এ তো গেলো trip এর বিবরণ। এর বাইরে আরো কিছু কথা না বললে ব্যাপারটা অসম্পূর্ণ রয়ে যাবে। North East এর অন্যান্য অনেক জায়গার মতো, এখানেও tourist তুলনামূলক ভাবে কমই। তবে সবুজে ঘেরা ত্রিপুরা সত্যিই অসাধারণ। আর জনঘনত্ব কম হওয়ার কারণে প্রকৃতি যেনো আরো বেশি করে জড়িয়ে রয়েছে ত্রিপুরাকে। জঙ্গল, পাহাড়ের মধ্যে দিয়ে সর্পিল রাস্তা কোথাও North Bengal, তো কোথাও Goa র রাস্তার কথা মনে করায়। Dumboor lake, Jampui Hills, Mahamuni Buddha Monastery, Pilak এ archeological site, একাধিক wildlife sanctuary – কি নেই ত্রিপুরায়? সময়াভাবে এরকম অনেক জায়গাই এইবারে যেতে পারিনি। তবে এই trip Tripura আসার খিদেটা বাড়িয়ে দিয়েছে অনেকখানি। মানুষজন এখানে সরল সাধাসিধে, সেটা ভালোলাগাটাকে অনেকখানি সমৃদ্ধ করে। ভাষা বাংলা হলেও একটু আলাদা, তাই কখনও কখনও বুঝতে একটু অসুবিধা হয়। তবে বাংলা ভাষার প্রতি অনেক শ্রদ্ধাশীল। Mall এর মধ্যে Shoppers Stop এ ঢোকার মুখে লেখা থাকতে দেখেছি বাংলা কবিতা, যা আমাদের পশ্চিমবঙ্গে দেখেছি বলে মনে পড়ে না।

আর অবশ্যই বলবো আমাদের গাড়ির দাদা, বাবলাদার কথা। কথাটা একটু কম বলেন ঠিকই, তবে দরকারী কোনো তথ্যই বাদ দেননি। একদিন কিছু পরিস্থিতির কারণে একটু দেরী করেছিলেন ঠিকই, তবে সেটা আমাদের trip এ কোনো প্রভাব ফেলেনি। দুদিন ওনার AC Ertiga গাড়িতে ঘোরার খরচ হয়েছে 7000টাকা। ওনার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন 8787401408 এই নম্বরে।


< Pratik, an Electrical Engineer by profession, is passionate about electric gadgets and loves to do DIY home automation kind of work himself. An avid traveller, who loves to plan his own trip with family, friends and senior citizens. Originally from the land of Nobel laureate Rabindranath Tagore, Bolpur-Santiniketan. Currently lives in Falakata, North Bengal. >

vromonbilas


Comments

Your opinion matters. Is there anything I missed?

Your email address will not be published. Required fields are marked *